শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫

নাগপঞ্চমীতে এগুলো না করলে ঘোর বিপদ l Nag Panchami l Sonaton TV

 


ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব নাগপঞ্চমী। এই একই দিনে বাংলায় মনসা পুজো করা হয়। এমনকী এই একই দিনে নেপালেও পালিত হয় নাগপঞ্চমী।

সর্পরাজ তক্ষকের হাতে নিহত পিতা পরীক্ষিতের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে জনমেজয় এই বলিদান করেছিলেন।ঋষি আস্তিক রাজা জনমেজয়কে বলিদান থেকে বিরত করেন এবং অবশেষে সর্পজাতি (সর্প সত্র) ধ্বংস করেন,যেদিন বলিদান বন্ধ করা হয়েছিল, সেদিন ছিল শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষ পঞ্চমী তিথি।
তাই প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে নাগ পঞ্চমী পালিত হয়। 

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, সাপের কামড়ে কেউ মারা গেলে এই ধরনের আত্মা মোক্ষ পায় না। সেক্ষেত্রে নাগপঞ্চমীতে নাগদেবের আরাধনা করলে নাগ দোষের ভয় থাকে না, যাদের অকাল মৃত্যু হয়েছে তারা মোক্ষ লাভ করবে। ব্রহ্মপুরাণ অনুসারে, ভগবান ব্রহ্মা নাগপঞ্চমীর দিন নাগ পুজো করার জন্য সাপকে বর দিয়েছিলেন। নাগ পঞ্চমীতে ভিনেতকী, কর্কট, অনন্ত, তক্ষক এবং কালিয়া, বাসুকি নাগের বিশেষ পুজো করা হয়।। তাঁদের আরাধনা করলে রাহু-কেতুর জন্মগত দোষ ও সর্প দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

পঞ্চাং অনুসারে, এ বছর শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথি আগামী ২৯ জুলাই, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আর এই পঞ্চমী পুজোর শুভ সময় শুরু হবে ভোর ৫ টা ৪১ মিনিট থেকে ৮ টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত।

অর্থাৎ পুজোর সময়কাল থাকবে মোট ২ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। এদিন ব্রহ্ম মুহূর্তে ভক্তিভরে স্নান করুন এবং সূর্য নমস্কার করে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করুন। এরপর ঈশ্বরের ধ্যান করে উপবাসের সংকল্প নিন।

পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে কাছাকাছি শিব মন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গের পুজো করুন এবং দুধ দিয়ে অভিষেক করুন। এরপরই দেবাদিদেব মহাদেবকে বেলপত্র এবং জল নিবেদন করতে হবে, যা তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। ওই একই দিনে শুভ মুহূর্তে আটটি সাপের উপাসনা করতে হবে।
আর সেই আটটি সাপ হল অনন্ত, বাসুকি, পদ্ম, মহাপদ্ম, তক্ষক, কুলীর, কারকট এবং শঙ্খ। 

পুজোর নিয়ম রীতি অনুযায়ী, সর্পদেবতার ৮টি রূপের পূজা করার সময়, তাদের দই, ভাত, দুধ, ফুল এবং মিষ্টি নিবেদন করতে হবে। এর সাথে, নাগ দেবতার মন্ত্রগুলি জপ করতে হবে। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে নাগ পঞ্চমীর দিন দরিদ্রদের দান করলে ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি উপচে পড়ে।

১. হিন্দু ধর্মে সাপকে দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কখনও সাপের ক্ষতি করা উচিত নয়, তবে বিশেষ করে নাগপঞ্চমীর দিনে সাপকে আঘাত করবেন না। এতে করে আগামী সাত প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২. বংশধরদের ক্ষতি-এই দিনে কোনও কাজের জন্য মাটি খনন করবেন না। এতে করে মাটি বা মাটিতে সাপের গর্ত বা গর্ত ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাপ বিরক্ত হলে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।
৩. পুজোয় এই ভুল করবেন না – এই দিনে জীবন্ত সাপকে দুধ দেবেন না। দুধ সাপের জন্য বিষাক্ত হতে পারে, তাই শুধুমাত্র তাদের মূর্তিগুলিতে দুধ নিবেদন করুন।
৪. ধারাল জিনিস দিয়ে কাজ করবেন না- নাগপঞ্চমীতে ছুরির মতো ধারালো জিনিস ব্যবহার করা অশুভ বলে মনে করা হয়।
৫. নাগ পঞ্চমীতে লোহার কড়াই ও প্যানে খাবার রান্না করবেন না।

 

 

বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি পুরো দেখুন...https://youtu.be/Qlzh7d3E_f0 

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫

আপনার গুরু জীবিত থাকলে অবশ্যই দেখবেন l Guru Purnima 2025 l Sonaton TV


 

গুরু পূর্ণিমা (Guru Purnima) হল হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মে পালিত একটি বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উৎসব, যেটি গুরুদের (শিক্ষক বা আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শকদের) সম্মান জানানোর জন্য পালন করা হয়। এটি আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (আষাঢ়ী পূর্ণিমা) উদযাপিত হয়। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে, সাধারণত জুন-জুলাই মাসে পড়ে।


📜 উৎপত্তি ও ইতিহাস

  1. হিন্দু ধর্মে:
    গুরু পূর্ণিমার সূচনা হয়েছে মহর্ষি বেদব্যাসকে স্মরণ করে। তিনি ছিলেন মহাভারতের রচয়িতা এবং চারটি বেদের সংকলনকারী। বলা হয়, এই দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই এই দিনটি "ব্যাস পূর্ণিমা" নামেও পরিচিত। এই দিন গুরুদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শিষ্যরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

  2. বৌদ্ধ ধর্মে:
    এই দিনটি গৌতম বুদ্ধ তাঁর প্রথম ধর্মপ্রবচন (ধর্মচক্র প্রবর্তন) করেছিলেন তাঁর পাঁচ শিষ্যের কাছে। সেজন্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটি খুব শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে।

  3. জৈন ধর্মে:
    মহাবীর এই দিনে তাঁর প্রথম শিষ্য গোতম গন্ধরকে দীক্ষা দেন বলে বিশ্বাস করা হয়।


🪔 কীভাবে পালন করা হয়

  1. গুরু পূজা:
    শিষ্যরা তাঁদের গুরু বা শিক্ষককে ফুল, মালা, ফল, নতুন বস্ত্র ও উপহার দিয়ে সম্মান জানায়। গুরুদের পায়ে পরশ করে আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয়।

  2. আধ্যাত্মিক সাধনা:
    অনেকেই এদিন ব্রত পালন করে, উপবাস করে এবং ধ্যান-যোগ-জপ করে।

  3. শ্রদ্ধাঞ্জলি:
    কেউ কেউ তাঁদের প্রয়াত গুরুদের স্মরণে বিশেষ পূজা বা হোম যজ্ঞ করে।

  4. বিদ্যালয় ও আশ্রমে অনুষ্ঠান:
    বিভিন্ন বিদ্যালয় বা গুরুকুলে ছেলেমেয়েরা গুরুদের অভিনন্দন জানায়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


🧘 কী কী নিয়ম মানতে হয়

  • এই দিনে শুদ্ধভাবে উপবাস পালন করা হয় অনেকের দ্বারা।

  • সকালের দিকে স্নান সেরে, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে গুরু বা গুরুতুল্য ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

  • অনেকে ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জপ বা ধ্যান করে দিনটি কাটান।

  • অহং ত্যাগ করে বিনয়ের সঙ্গে গুরু বা ঈশ্বরকে স্মরণ করা হয়।


📌 গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্য

  • একজন প্রকৃত "গুরু" অন্ধকার থেকে আলোর দিকে পথ দেখান।

  • শিষ্য ও গুরু সম্পর্কের পবিত্রতা তুলে ধরে এই উৎসব।

  • এটি আত্মশুদ্ধি, কর্তব্যপরায়ণতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায়।

     

    Full video is here:-  https://youtu.be/vJtWQ7NoI2c 

বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫

শয়ন একাদশীর রহস্যময় উৎপত্তি l Shayani Ekadashi l

 


শয়ন একাদশী (Shayani Ekadashi), যাকে হারিশয়নী একাদশী, দেবশয়নী একাদশী বা আষাঢ়ী একাদশী নামেও ডাকা হয়, এটি হিন্দু ধর্মে একটি অত্যন্ত পবিত্র একাদশী। এই দিনটি ভগবান বিষ্ণুর শয়নের দিন হিসেবে পরিচিত — অর্থাৎ, তিনি যোগনিদ্রায় যান। এর পেছনে রয়েছে এক রহস্যময় এবং দার্শনিক উৎপত্তিকাহিনী।


🌙 শয়ন একাদশীর রহস্যময় উৎপত্তি ও মাহাত্ম্য:

📜 পুরাণ অনুসারে কাহিনী:

অনেক কাল আগে, ত্রিলোকের অধিপতি ভগবান বিষ্ণু অসুরদের দমন করে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করেন। তিনি অনুভব করেন যে সমস্ত সৃষ্টি নিজ নিজ ধর্মে চলতে শুরু করেছে। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন কিছু সময় যোগনিদ্রায় (ধ্যানমগ্ন অবস্থায়) যাওয়ার।

এই অবস্থাটি শুরু হয় আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে — যেটি হলো শয়ন একাদশী। এই দিনে ভগবান শ্রীহরি ক্ষীরসাগরে (দুগ্ধসাগর) শয়নে যান — আর সেখানেই তিনি চার মাসের জন্য নিদ্রায় থাকেন। এই সময়কালকে বলা হয় চাতুর্মাস্য (চার মাস), যা শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

এই সময়ে তিনি সক্রিয় লীলা বন্ধ রাখেন এবং তার স্থানীয় প্রতিনিয়োগ হন দেবী লক্ষ্মী ও ব্রহ্মা দ্বারা।


✨ শয়ন একাদশীর গুরুত্ব:

  • এই দিন থেকে শুরু হয় চাতুর্মাস্য ব্রত, যা ব্রহ্মচার্য, সত্যবাদিতা, নিরামিষ আহার ও আত্মসংযমের প্রতীক।

  • অনেকে এই দিনে পায়ের নখ কাটা, চুল কাটা, বিয়ে বা গৃহপ্রবেশ বন্ধ রাখেন।

  • এটি ভগবান বিষ্ণুর "যোগনিদ্রা প্রবেশের" দিন — তাই এই দিন বিষ্ণুর ধ্যান, নামস্মরণ ও উপবাসে থাকলে তাঁর আশীর্বাদে জন্মজন্মান্তরের পাপ ধুয়ে যায়।

  • এটি বিয়ের “বন্ধকাল” শুরু হওয়ার দিন হিসেবেও বিবেচিত হয়।


🛐 ব্রত ও উপাসনা:

  1. উপবাস রাখা হয় (পুরো দিন জলহীন বা ফলাহার ভোজন)।

  2. বিষ্ণুর মূর্তি বা ছবি বিশেষভাবে পূজিত হয়, তাঁর শয়নকক্ষে ফুল, তুলসী পাতা, চন্দন প্রভৃতি অর্পণ করা হয়।

  3. রাত্রিজাগরণ করে ভগবানের নাম কীর্তন করা হয়।

  4. পরদিন দ্বাদশীতে পারণ (উপবাস ভঙ্গ) করা হয়।


💡 একটি দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি:

শয়ন একাদশীর মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, প্রকৃত শক্তিশালী হওয়া মানে বিশ্রাম জানাও — সৃষ্টি এবং লীলার মধ্যেও সংযম ও সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। এই একাদশী আমাদের শিখায় আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধ্যান ও ধৈর্য।

 

 

Full video is here:-  https://youtu.be/4bg8dZ7r4NE


কামিকা একাদশী ব্রত রহস্য! সব একাদশীর মধ্য শ্রেষ্ঠ এই একাদশী |

 


কামিকা একাদশী (Kamika Ekadashi) হলো হিন্দু ধর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ একাদশী ব্রত, যা শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে পালন করা হয়। এই ব্রত পালনে পাপ মোচন হয় এবং ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।


📜 কামিকা একাদশীর কাহিনী (উত্তমি কাহিনী):

এক সময় নারদ মুনি ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশে জিজ্ঞাসা করেন — "হে ভগবান, কামিকা একাদশীর মাহাত্ম্য কী? এই ব্রত পালন করলে কী ফল লাভ হয়?"

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উত্তরে বলেন:

এক গ্রামে এক যোদ্ধা বাস করতো, যার মন ছিলো ক্রোধ ও হিংসায় পরিপূর্ণ। একদিন এক নিরীহ ব্রাহ্মণকে সে হত্যা করে ফেলে। পরবর্তীতে পাপের ভয় ও অনুশোচনায় সে ক্লিষ্ট হতে থাকে। অনেক চেষ্টা করেও পাপমোচন হয় না। শেষে সে এক সাধুর কাছে যায় এবং উপদেশ পায় শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের কামিকা একাদশী ব্রত পালনের।

এই ব্রত পালনের সময় সে ভগবান বিষ্ণুর উপাসনা করে, নির্জলা উপবাসে থাকে এবং ভগবানের নামস্মরণে মন স্থির রাখে। এই এক ব্রতেই তার সমস্ত পাপ ধুয়ে যায় এবং সে মুক্তি লাভ করে।


✨ কামিকা একাদশীর গুরুত্ব:

  • পাপমোচনের জন্য শ্রেষ্ঠ একাদশী।

  • পূর্বজদের মুক্তি দেয়।

  • বিষ্ণু ভক্তের প্রতি ভগবান প্রসন্ন হন।

  • ব্রহ্মা, ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতারা এই ব্রতের গুণগান করেছেন।


🛐 ব্রত পালনের নিয়ম:

  1. ব্রতের আগের দিন পবিত্রভাবে আহার গ্রহণ করতে হয় (একবার নিরামিষ)।

  2. একাদশীর দিন উপবাস রাখা উচিত — যদি সম্ভব হয় নির্জলা উপবাস (জল ব্যতিরেকেও)।

  3. ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান, পূজা ও নামস্মরণ করা হয়।

  4. দান, জপ, পাঠ, গীতা পাঠ — এসব ব্রতকে আরও ফলদায়ক করে তোলে।

  5. দ্বাদশীর দিন পারণ (উপবাস ভঙ্গ) করা হয়।

     

     Full video is here:- https://youtu.be/TLeHxL_Bvto 


রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫

জানুন যোগিনী একাদশীর গোপন রহস্য! কেন যোগিনী একাদশী পালন করা হয়?

 

 


ব্রন্মবৈবর্ত পুরাণে আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী ব্রত মাহাত্য যুধিষ্ঠির-শরীকৃষ্ণ সংবাদরূপে বর্ণিত আছে।

যুধিষ্ঠির বললেন-_হে বাসুদেব! আবাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী মাহাজ্য কৃপাপূর্বক আমাকে বলুন।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন-__হে মহারাজ সকল পাপবিনাশিনী ও মুক্তিপ্রদ এই উত্তম ব্রতের কথা বলছি, আপনি শ্রবণ করুন। আষাঢ় মাসের কৃষণপক্ষীবা একাদশী 'যোগিনী' নামে খ্যাত। মহাপাপ নাশকারী এই তিথি ভবসাগরে পতিত মানুষের উদ্ধার লাভের একমাত্র নৌকাম্বরূপ। ব্রত পালনকারীদের পক্ষে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রত বলে প্রসিদ্ধ। এই প্রসঙ্গে আপনাকে একটি পবিত্র পৌরাণিক কাহিনী বলছি।

অলকা নগরে শিবভক্ত পরায়ণ কুবের নামে এক রাজা ছিল। তিনি প্রতাহ শিবপুজা করতেন। তার হেমমালী নামে একজন মালী ছিল। প্রতিদিন শিব পুজার জন্য মানস সরোবর থেকে সে ফুল তুলে ঘক্ষরাজ কুবেরকে দিত। বিশালাক্ষী নামে হেমমালীর এক পরমা রূপবতী পড়ী ছিল। সে তার সুন্দরী পত্বীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হিল। একদিন সে তার স্ত্রীর প্রতি কামাদক্ত হয়ে পড়ল। রাজভবনে যাওয়ার কথাও ভুলে গেল। বেলা দুই প্রহর অতীত হল। অর্চনের সময় চলে যাচ্ছে দেখে রাজা ক্রুদ্ধ হলেন। মালীর বিলম্বের কারণ অনুসন্ধানে এক দূত প্রেরণ করলেন।

দৃত এসে রাজাকে বলল-“সে গৃহে স্ত্রীর সাথে আনন্দে মত্ত।' দূতের কথা শুনে কুবের অত্যন্ত রেগে তখনি মালীকে তার সামনে হাজির করতে আদেশ দিল। এদিকে মালী কুবেরের পুজার সময় অতিবাহিত হয়েছে বুঝতে পেরে অত্যন্ত ভয় পেল। তাই ক্লান না করেই সে রাজার কাছে উপস্থিত হল।

 

পিষ্, দুরাচার! তুই দেবপৃজার পু্প আনতে অবজ্ঞা করেছিস তাই আমি তোকে অভিশাপ দিচ্ছি তুই শ্বেতকুষটগর্ত হয়ে যা এবং তোর প্রিয়তমা ভার্যার সাথে তোর চিরবিয়োগ সংগঠিত হোক। রে নীচ, তুই এখনি এই স্থান থেকে জষ্ট হয়ে অধোগতি লাভ কর।

কুবেরের এই অভিশাপে হেমমালী পত্থীর সাথে স্ব্ুষ্ট হয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ কুষ্ঠরোগ ভোগ করতে লাগল। রোগের যন্ত্র দিন অথবা রাত্রে কখনই সে সুখ পেত না। এভাবে শীত শ্রী প্রচণ্ড বেদনায় বহকষ্টে সে জীবনযাপন করতে লাগল। কিন্তু দীর্ঘদিন মহাদেবের অর্জনের ফুল সংগ্রহের সুকৃতি ফলে সে শাপগ্রস্ত হয়েও 'বৈফরশ্রেষ্ঠ শিবের বিস্মরণ কখনও হয়নি।

একদিন হেমমালী ভ্রমণ করতে করতে হিমালয় ্রমার্কতডয় বধির আশ্রমে উপস্থিত হল। কুষ্ঠরোগে পীড়িত সপত়ী হেমমালীকে দর্শন করে শ্রীমার্কণডয় তাকে জিজ্ঞাসা করলেন__তুমি কার অভিশাপে এইরকম নিন্দনীয় কুষ্ঠরোগগ্রস্ত হয়েছ?”

সে উত্তর দিল__“হে মুনিবর! রাজা ধনকুবেরের আমি ভৃত্য হিলাম। আগার নাম হেমমালী। আমি প্রত্যহ মানস সরোবর থেকে ফুল তুলে শিব পুজার জন্য রাজকে দিতাম। কিন্তু দুর্াগ্যক্রমে একদিন স্ত্রীর মনোরঞ্জন হেতু কামাসক্ত হওয়ায় সেই ফুল দিতে বিলম্ব হয়। রাজার অভিশাপে এইরকম দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছি। পরোপকারই সাধুগণের স্বাভাবিক কর্ম। হে ঝধিস্রেষ্ঠঃ আমি অত্যন্ত অপরাধী। কৃপা করে আমার প্রতি প্রসন্ন হোন।

তখন দয়ার চিত্ত মার্কগডয় মুনি বললেন__হে মালী তোমার মঙ্গলের জন্য শুভফল প্রদানকারী এক ব্রতের উপদেশ করছি। তুমি আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ের “যোগিনী" নামক একাদশী ব্রত পালন কর। এই ব্রতের পুণ্য প্রভাবে তুমি অবশ্যই কুষ্ব্যাধি থেকে যুক্ত হবে।


শ্রীকৃষ্ণ বললেন-__ঝষির উপদেশ শ্রবণ করে হেমমালী তাকে প্রণাম জানাল। পরে অত্যন্ত আনন্দে ঝধির আদেশমতো নিষ্ঠার সঙ্গে যোগিনী একাদশী ব্রত পালন করল। এইভাবে হেমমালী সমন্ড রোগ থেকে মুক্ত হল ও পত্রীসহ সুখে জীবনযাপন করতে লাগল।

হে মহারাজ যুধিষ্ঠির! জামি আপনার কাছে এই ব্রত উপবাসের মহিমা কীর্তন করলাম। এই ব্রত পালনে অষ্টাশি হাজার ব্রাম্থাণকে ভোজন করানোর ফল লাভ হয়। যে ব্যক্তি এই মহাপাপ বিনাশকারী ও পুন্যফল প্রদায়ী বোগিনী একাদশীর কথা পাঠ এবং শ্রবণ করে সে অচিরেই সর্বপাপ থেকে থেকে মুক্ত হবে।



 

 

  Watch Video From Youtube