ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব নাগপঞ্চমী। এই একই দিনে বাংলায় মনসা পুজো করা হয়। এমনকী এই একই দিনে নেপালেও পালিত হয় নাগপঞ্চমী।
সর্পরাজ তক্ষকের হাতে নিহত পিতা পরীক্ষিতের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে জনমেজয় এই বলিদান করেছিলেন।ঋষি আস্তিক রাজা জনমেজয়কে বলিদান থেকে বিরত করেন এবং অবশেষে সর্পজাতি (সর্প সত্র) ধ্বংস করেন,যেদিন বলিদান বন্ধ করা হয়েছিল, সেদিন ছিল শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষ পঞ্চমী তিথি।
তাই প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে নাগ পঞ্চমী পালিত হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, সাপের কামড়ে কেউ মারা গেলে এই ধরনের আত্মা মোক্ষ পায় না। সেক্ষেত্রে নাগপঞ্চমীতে নাগদেবের আরাধনা করলে নাগ দোষের ভয় থাকে না, যাদের অকাল মৃত্যু হয়েছে তারা মোক্ষ লাভ করবে। ব্রহ্মপুরাণ অনুসারে, ভগবান ব্রহ্মা নাগপঞ্চমীর দিন নাগ পুজো করার জন্য সাপকে বর দিয়েছিলেন। নাগ পঞ্চমীতে ভিনেতকী, কর্কট, অনন্ত, তক্ষক এবং কালিয়া, বাসুকি নাগের বিশেষ পুজো করা হয়।। তাঁদের আরাধনা করলে রাহু-কেতুর জন্মগত দোষ ও সর্প দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
পঞ্চাং অনুসারে, এ বছর শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথি আগামী ২৯ জুলাই, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আর এই পঞ্চমী পুজোর শুভ সময় শুরু হবে ভোর ৫ টা ৪১ মিনিট থেকে ৮ টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত।
অর্থাৎ পুজোর সময়কাল থাকবে মোট ২ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। এদিন ব্রহ্ম মুহূর্তে ভক্তিভরে স্নান করুন এবং সূর্য নমস্কার করে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করুন। এরপর ঈশ্বরের ধ্যান করে উপবাসের সংকল্প নিন।
পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে কাছাকাছি শিব মন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গের পুজো করুন এবং দুধ দিয়ে অভিষেক করুন। এরপরই দেবাদিদেব মহাদেবকে বেলপত্র এবং জল নিবেদন করতে হবে, যা তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। ওই একই দিনে শুভ মুহূর্তে আটটি সাপের উপাসনা করতে হবে।
আর সেই আটটি সাপ হল অনন্ত, বাসুকি, পদ্ম, মহাপদ্ম, তক্ষক, কুলীর, কারকট এবং শঙ্খ।
পুজোর নিয়ম রীতি অনুযায়ী, সর্পদেবতার ৮টি রূপের পূজা করার সময়, তাদের দই, ভাত, দুধ, ফুল এবং মিষ্টি নিবেদন করতে হবে। এর সাথে, নাগ দেবতার মন্ত্রগুলি জপ করতে হবে। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে নাগ পঞ্চমীর দিন দরিদ্রদের দান করলে ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি উপচে পড়ে।
১. হিন্দু ধর্মে সাপকে দেবতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কখনও সাপের ক্ষতি করা উচিত নয়, তবে বিশেষ করে নাগপঞ্চমীর দিনে সাপকে আঘাত করবেন না। এতে করে আগামী সাত প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২. বংশধরদের ক্ষতি-এই দিনে কোনও কাজের জন্য মাটি খনন করবেন না। এতে করে মাটি বা মাটিতে সাপের গর্ত বা গর্ত ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাপ বিরক্ত হলে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।
৩. পুজোয় এই ভুল করবেন না – এই দিনে জীবন্ত সাপকে দুধ দেবেন না। দুধ সাপের জন্য বিষাক্ত হতে পারে, তাই শুধুমাত্র তাদের মূর্তিগুলিতে দুধ নিবেদন করুন।
৪. ধারাল জিনিস দিয়ে কাজ করবেন না- নাগপঞ্চমীতে ছুরির মতো ধারালো জিনিস ব্যবহার করা অশুভ বলে মনে করা হয়।
৫. নাগ পঞ্চমীতে লোহার কড়াই ও প্যানে খাবার রান্না করবেন না।
বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি পুরো দেখুন...https://youtu.be/Qlzh7d3E_f0




