রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫

জানুন যোগিনী একাদশীর গোপন রহস্য! কেন যোগিনী একাদশী পালন করা হয়?

 

 


ব্রন্মবৈবর্ত পুরাণে আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী ব্রত মাহাত্য যুধিষ্ঠির-শরীকৃষ্ণ সংবাদরূপে বর্ণিত আছে।

যুধিষ্ঠির বললেন-_হে বাসুদেব! আবাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী মাহাজ্য কৃপাপূর্বক আমাকে বলুন।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন-__হে মহারাজ সকল পাপবিনাশিনী ও মুক্তিপ্রদ এই উত্তম ব্রতের কথা বলছি, আপনি শ্রবণ করুন। আষাঢ় মাসের কৃষণপক্ষীবা একাদশী 'যোগিনী' নামে খ্যাত। মহাপাপ নাশকারী এই তিথি ভবসাগরে পতিত মানুষের উদ্ধার লাভের একমাত্র নৌকাম্বরূপ। ব্রত পালনকারীদের পক্ষে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রত বলে প্রসিদ্ধ। এই প্রসঙ্গে আপনাকে একটি পবিত্র পৌরাণিক কাহিনী বলছি।

অলকা নগরে শিবভক্ত পরায়ণ কুবের নামে এক রাজা ছিল। তিনি প্রতাহ শিবপুজা করতেন। তার হেমমালী নামে একজন মালী ছিল। প্রতিদিন শিব পুজার জন্য মানস সরোবর থেকে সে ফুল তুলে ঘক্ষরাজ কুবেরকে দিত। বিশালাক্ষী নামে হেমমালীর এক পরমা রূপবতী পড়ী ছিল। সে তার সুন্দরী পত্বীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হিল। একদিন সে তার স্ত্রীর প্রতি কামাদক্ত হয়ে পড়ল। রাজভবনে যাওয়ার কথাও ভুলে গেল। বেলা দুই প্রহর অতীত হল। অর্চনের সময় চলে যাচ্ছে দেখে রাজা ক্রুদ্ধ হলেন। মালীর বিলম্বের কারণ অনুসন্ধানে এক দূত প্রেরণ করলেন।

দৃত এসে রাজাকে বলল-“সে গৃহে স্ত্রীর সাথে আনন্দে মত্ত।' দূতের কথা শুনে কুবের অত্যন্ত রেগে তখনি মালীকে তার সামনে হাজির করতে আদেশ দিল। এদিকে মালী কুবেরের পুজার সময় অতিবাহিত হয়েছে বুঝতে পেরে অত্যন্ত ভয় পেল। তাই ক্লান না করেই সে রাজার কাছে উপস্থিত হল।

 

পিষ্, দুরাচার! তুই দেবপৃজার পু্প আনতে অবজ্ঞা করেছিস তাই আমি তোকে অভিশাপ দিচ্ছি তুই শ্বেতকুষটগর্ত হয়ে যা এবং তোর প্রিয়তমা ভার্যার সাথে তোর চিরবিয়োগ সংগঠিত হোক। রে নীচ, তুই এখনি এই স্থান থেকে জষ্ট হয়ে অধোগতি লাভ কর।

কুবেরের এই অভিশাপে হেমমালী পত্থীর সাথে স্ব্ুষ্ট হয়ে দীর্ঘকাল যাবৎ কুষ্ঠরোগ ভোগ করতে লাগল। রোগের যন্ত্র দিন অথবা রাত্রে কখনই সে সুখ পেত না। এভাবে শীত শ্রী প্রচণ্ড বেদনায় বহকষ্টে সে জীবনযাপন করতে লাগল। কিন্তু দীর্ঘদিন মহাদেবের অর্জনের ফুল সংগ্রহের সুকৃতি ফলে সে শাপগ্রস্ত হয়েও 'বৈফরশ্রেষ্ঠ শিবের বিস্মরণ কখনও হয়নি।

একদিন হেমমালী ভ্রমণ করতে করতে হিমালয় ্রমার্কতডয় বধির আশ্রমে উপস্থিত হল। কুষ্ঠরোগে পীড়িত সপত়ী হেমমালীকে দর্শন করে শ্রীমার্কণডয় তাকে জিজ্ঞাসা করলেন__তুমি কার অভিশাপে এইরকম নিন্দনীয় কুষ্ঠরোগগ্রস্ত হয়েছ?”

সে উত্তর দিল__“হে মুনিবর! রাজা ধনকুবেরের আমি ভৃত্য হিলাম। আগার নাম হেমমালী। আমি প্রত্যহ মানস সরোবর থেকে ফুল তুলে শিব পুজার জন্য রাজকে দিতাম। কিন্তু দুর্াগ্যক্রমে একদিন স্ত্রীর মনোরঞ্জন হেতু কামাসক্ত হওয়ায় সেই ফুল দিতে বিলম্ব হয়। রাজার অভিশাপে এইরকম দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছি। পরোপকারই সাধুগণের স্বাভাবিক কর্ম। হে ঝধিস্রেষ্ঠঃ আমি অত্যন্ত অপরাধী। কৃপা করে আমার প্রতি প্রসন্ন হোন।

তখন দয়ার চিত্ত মার্কগডয় মুনি বললেন__হে মালী তোমার মঙ্গলের জন্য শুভফল প্রদানকারী এক ব্রতের উপদেশ করছি। তুমি আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ের “যোগিনী" নামক একাদশী ব্রত পালন কর। এই ব্রতের পুণ্য প্রভাবে তুমি অবশ্যই কুষ্ব্যাধি থেকে যুক্ত হবে।


শ্রীকৃষ্ণ বললেন-__ঝষির উপদেশ শ্রবণ করে হেমমালী তাকে প্রণাম জানাল। পরে অত্যন্ত আনন্দে ঝধির আদেশমতো নিষ্ঠার সঙ্গে যোগিনী একাদশী ব্রত পালন করল। এইভাবে হেমমালী সমন্ড রোগ থেকে মুক্ত হল ও পত্রীসহ সুখে জীবনযাপন করতে লাগল।

হে মহারাজ যুধিষ্ঠির! জামি আপনার কাছে এই ব্রত উপবাসের মহিমা কীর্তন করলাম। এই ব্রত পালনে অষ্টাশি হাজার ব্রাম্থাণকে ভোজন করানোর ফল লাভ হয়। যে ব্যক্তি এই মহাপাপ বিনাশকারী ও পুন্যফল প্রদায়ী বোগিনী একাদশীর কথা পাঠ এবং শ্রবণ করে সে অচিরেই সর্বপাপ থেকে থেকে মুক্ত হবে।



 

 

  Watch Video From Youtube

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন