গুরু পূর্ণিমা (Guru Purnima) হল হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মে পালিত একটি বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উৎসব, যেটি গুরুদের (শিক্ষক বা আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শকদের) সম্মান জানানোর জন্য পালন করা হয়। এটি আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে (আষাঢ়ী পূর্ণিমা) উদযাপিত হয়। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে, সাধারণত জুন-জুলাই মাসে পড়ে।
📜 উৎপত্তি ও ইতিহাস
-
হিন্দু ধর্মে:
গুরু পূর্ণিমার সূচনা হয়েছে মহর্ষি বেদব্যাসকে স্মরণ করে। তিনি ছিলেন মহাভারতের রচয়িতা এবং চারটি বেদের সংকলনকারী। বলা হয়, এই দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই এই দিনটি "ব্যাস পূর্ণিমা" নামেও পরিচিত। এই দিন গুরুদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শিষ্যরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। -
বৌদ্ধ ধর্মে:
এই দিনটি গৌতম বুদ্ধ তাঁর প্রথম ধর্মপ্রবচন (ধর্মচক্র প্রবর্তন) করেছিলেন তাঁর পাঁচ শিষ্যের কাছে। সেজন্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটি খুব শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে। -
জৈন ধর্মে:
মহাবীর এই দিনে তাঁর প্রথম শিষ্য গোতম গন্ধরকে দীক্ষা দেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
🪔 কীভাবে পালন করা হয়
-
গুরু পূজা:
শিষ্যরা তাঁদের গুরু বা শিক্ষককে ফুল, মালা, ফল, নতুন বস্ত্র ও উপহার দিয়ে সম্মান জানায়। গুরুদের পায়ে পরশ করে আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয়। -
আধ্যাত্মিক সাধনা:
অনেকেই এদিন ব্রত পালন করে, উপবাস করে এবং ধ্যান-যোগ-জপ করে। -
শ্রদ্ধাঞ্জলি:
কেউ কেউ তাঁদের প্রয়াত গুরুদের স্মরণে বিশেষ পূজা বা হোম যজ্ঞ করে। -
বিদ্যালয় ও আশ্রমে অনুষ্ঠান:
বিভিন্ন বিদ্যালয় বা গুরুকুলে ছেলেমেয়েরা গুরুদের অভিনন্দন জানায়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
🧘 কী কী নিয়ম মানতে হয়
-
এই দিনে শুদ্ধভাবে উপবাস পালন করা হয় অনেকের দ্বারা।
-
সকালের দিকে স্নান সেরে, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে গুরু বা গুরুতুল্য ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
-
অনেকে ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জপ বা ধ্যান করে দিনটি কাটান।
-
অহং ত্যাগ করে বিনয়ের সঙ্গে গুরু বা ঈশ্বরকে স্মরণ করা হয়।
📌 গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্য
-
একজন প্রকৃত "গুরু" অন্ধকার থেকে আলোর দিকে পথ দেখান।
-
শিষ্য ও গুরু সম্পর্কের পবিত্রতা তুলে ধরে এই উৎসব।
-
এটি আত্মশুদ্ধি, কর্তব্যপরায়ণতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায়।
Full video is here:- https://youtu.be/vJtWQ7NoI2c



